Posts

চাঁই সাহিত্য সভা

 চাঁই ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বৃহত্তর সমাজে তুলে ধরতে "চাঁই সাহিত্য সভা" সংগঠন গড়ে উঠেছে।   ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশে সাহায্য করে। ভাষা সমাজের ঐতিহ্য বহন করে। ভাষা একটি সমাজের সংস্কৃতি তুলে ধরে। ভাষা একটি সমাজকে প্রকাশ করে। আমাদের দেশে হাজারো ভাষার বৈচিত্র্য পরিপূর্ন। প্রায় ৩০ কিলোমিটার অন্তর মানুষের বোলি পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। পরিবর্তন দেখাযায় সমাজের সংস্কৃতিতেও। 'চাঁই ভাষা' চাঁই সমাজের নিজস্ব মাতৃভাষা। যা বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। বিলুপ্ত হতে চলেছে একটি গোষ্ঠী বা সমাজের ঐতিহ্য। এর জন্য দায়ী চাঁই সমাজ। যদি হাজারো ভাষার মধ্যে গোষ্ঠী বা সমাজকেন্দ্রিক কিছু ভাষা সরকারীভাবে স্বীকৃতি পেতে পারে তবে চাঁই ভাষা স্বীকৃতি কেন পাবে না?? এর দায় আমাদের সমাজকেই নিতে হবে। কারণ এই বিষয়ে আমরা উদাসীন। ৫০০০ জনবসতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ধিমাল সমাজ যদি তাদের ভাষার স্বীকৃতি পায়, তবে ৩৫ লক্ষ চাঁই সমাজের মাতৃভাষা ' চাঁই ' কেন স্বীকৃতি পাবে না?? সাঁওতালি, টোটো, প্রভৃতি সম্প্রদায় তাদের মাতৃভাষাকে বাঁচাতে পারে, তবে কেন আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে বাঁচাতে পারবো না?? মুখে প্...

চাঁই সংস্কৃতি

Image
 চাঁই সংস্কৃতি আজকে আমরা চাঁই সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা করবো। আমরা যদি আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে দেখি, তবে দেখতে পাবো চাঁই সমাজ যথেষ্ট রক্ষণশীল সমাজ হিসেবে বিবেচিত ছিল। চাঁই সমাজে স্বসাশিত বিচার ব্যবস্থা ছিল। প্রতিটি চাঁই মহল্লায় একজন করে চাঁই মোড়ল থাকতেন। ছোটখাটো ঝামেলা এই মড়লরাই মিটিয়ে নিতেন। এই মোড়লরা চাঁই সমাজে অত্যন্ত সম্মানের মর্যাদা পেতেন। এক গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের বিবাদ হলে বিরাট বিচার ব্যবস্থা হতো। এই বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করতে পাঁচ গ্রামের মোড়লদের ডাকা হতো, তাতেও যদি মীমাংসা নাহয়, তবে বাইশ গ্রামের মোড়লদের ডেকে বিচার করা হতো আর একেই বলাহতো বাইশি বিচার ব্যবস্থা, তাতেও যদি সমস্যার সমাধান না বেরোয় তবে ৮৪ গ্রামের মোড়লদের ডাকা হতো এবং বেশ কয়েকদিন ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলতো আর একে বলাহতো চুরাশিয়া বিচার ব্যবস্থা।  তখনকার চাঁইরা বাস্তু দেবতাকে খুবই ভয় করতো। পাঁচ পীরীয়া বা গোঁসাই ছিল চাঁই সমাজের পরম আরাধ্য দেবতা। একেই বাস্তু দেবতা বলা হতো। চাঁই সমাজের সকল শুভকাজে এই গোঁসাই পূজিত হতো।  দুটি চাঁই পরিবারের গোঁসাই একই রকম না-থাকলে বৈবাহিক সম্পর্ক হতো না। তখনকার...

জয় চাঁই সমাজ

Image
  জাগো চাঁই জাগো। নিজ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে দরকার সমাজের ঐক্যবদ্ধতা। একদা রক্ষণশীল চাঁই সমাজ সুদূর উত্তর প্রদেশ থেকে ছাড়িয়ে সারা ভারত বর্ষে তথা বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। আবার ভারতবর্ষ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ ও নেপালেও চাঁই সমাজের বসবাস গড়ে ওঠে। আঞ্চলিক আগ্রাসনের প্রভাবে মেহনতি চাঁই সমাজ আজ তার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। এই পরিস্থতিতে চাঁই সমাজ তার ঐতিহ্য ফিরে পেতে অখিল ভারতীয় চাঁই সমাজ কল্যাণ পরিষদের নেতৃত্বধীন 'চাঁই সাহিত্য সভা' জোরদার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁই সাহিত্য সভার সদস্যরা বিভিন্ন চাঁই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় চাঁই ভাষাকে উজ্জীবিত করছেন। সংগঠনের সহসভাপতি মাননীয় বরুণ মণ্ডল মহাশয় জানান, চাঁই সমাজ আজ হীনমন্যতা থেকে বেরিয়ে আসছে। চাঁইদের বাস্তু দেবতা গোঁসাই বা পাঁচ পিরিয়া চাঁই সমাজের পূজ্য দেবতা। সংগঠনের সভাপতি মাননীয় ড. বিজয় কুমার সরকার মহাশয় জানান, চাঁই সমাজের ঐতিহ্য এখনো প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যমান, সেই প্রত্যন্ত গ্রাম গুলো থেকেই ধীরে ধীরে মূল স্রোতে চাঁইদের সংস্কৃতি ফেরানো সম্ভব। বর্তমা...